ছবি : প্রতিনিধি
নাটোর: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক একটি মোবাইল অ্যাপসে পরিচয়। এরপর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্বের টানেই হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ চীন থেকে নাটোরের বড়াইগ্রামে ছুটে এসেছেন এক চীনা যুবক। আর বিদেশি অতিথির আগমনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই তাকে একনজর দেখতে স্থানীয় নারী-পুরুষের ভিড় জমে যায় ওই বাড়িতে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের ভবানীপুর ভাটোপাড়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে পৌঁছান ওই চীনা নাগরিক। তিনি বর্তমানে পরিবারের আতিথেয়তায় কয়েকদিন অবস্থান করছেন।
জানা গেছে, বড়াইগ্রাম উপজেলার ভবানীপুর ভাটোপাড়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে, স্কুলশিক্ষার্থী সাদিয়া খাতুনের সঙ্গে কয়েক মাস আগে একটি মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে ওই চীনা যুবকের পরিচয় হয়। প্রথমে সাধারণ কথাবার্তা হলেও সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বাংলাদেশে এসে সাদিয়ার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন ওই যুবক।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমদিকে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি তারা। এমনকি সাদিয়াও বিশ্বাস করেননি যে, চীনের ওই যুবক সত্যিই বাংলাদেশে আসবেন। পরে তিনি নিজের পাসপোর্ট ও ভিসার কপি পাঠালে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর পরিবারের সম্মতি নিয়ে বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার তিনি বিমানে ঢাকায় পৌঁছানোর পর সাদিয়ার পরিবারের সদস্যরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রহণ করে নাটোরের বড়াইগ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
চীনা যুবকের আগমনের খবর মুহূর্তেই আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিদেশি অতিথিকে একনজর দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় করেন। অনেকে তার সঙ্গে ছবি তোলেন এবং কৌতূহল নিয়ে নানা বিষয়ে কথা বলেন।
স্কুলশিক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন বলেন, ‘একটি মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সে একদিন জানায়, আমার সঙ্গে দেখা করতে বাংলাদেশে আসতে চায়। আমি তখন বিশ্বাস করিনি। পরে সে পাসপোর্ট ও ভিসার ছবি পাঠায়। ঢাকায় পৌঁছানোর পর আমার পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে আসেন। সে বন্ধু হিসেবেই আমাদের বাড়িতে এসেছে।’
সাদিয়ার বাবা সাদ্দাম হোসেন বলেন,‘আমার মেয়ের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়েছে। সে বাংলাদেশে এসে আমাদের এলাকায় ঘুরতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে আমরা সম্মতি দিই। সে আমাদের অতিথি। কয়েকদিন এখানে ঘুরে-ফিরে আবার নিজ দেশে ফিরে যাবে। বিষয়টিকে আমরা শুধুই বন্ধুত্ব হিসেবেই দেখছি।’
জোয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর বলেন, ‘চীন থেকে একজন নাগরিক আমাদের ইউনিয়নের ভাটোপাড়া গ্রামে বেড়াতে এসেছেন। স্থানীয় এক মেয়ের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব রয়েছে। বর্তমানে তিনি ওই পরিবারের অতিথি হিসেবে অবস্থান করছেন। কয়েকদিন পর তিনি আবার চীনে ফিরে যাবেন।’
এদিকে, চীনা নাগরিকের আগমনকে ঘিরে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, গ্রামের একটি সাধারণ পরিবারের বাড়িতে বিদেশি অতিথির আগমন তাদের জন্য ব্যতিক্রমী ও আনন্দের একটি ঘটনা। ফলে প্রতিদিনই নানা বয়সী মানুষ ওই বাড়িতে এসে অতিথির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন এবং ছবি তুলছেন।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত কিছু নেই। এটি শুধুমাত্র দুই বন্ধুর সৌজন্য সাক্ষাৎ। কয়েকদিন বড়াইগ্রামের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার পর চীনা যুবক নিজ দেশে ফিরে যাবেন।
পিএস